সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

স্বাধীন দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

  • আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৫:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৫:০৬:১২ পূর্বাহ্ন
স্বাধীন দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
মোহাম্মদ আব্দুল হক::>
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আগত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বাঙালি জাতি। একাত্তরের আগ পর্যন্ত এ জাতি শাসিত হয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, তুর্কী, মোগল, ইংরেজ এবং সর্বশেষ পাকিস্তানি সামন্ত পুঁজিপতিদের দ্বারা। এখন পৃথিবীর আরো আরো রাষ্ট্রের মতো স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র হলো বাঙালি জাতির বাংলাদেশ। এখন কেমন আছি আমরা। ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভিত্তি খুঁজে নিতে চেষ্টা করি সবসময়। ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের পথ ধরে আসে স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশের জনগণের প্রতি যখন অন্যায় অত্যাচার নেমে আসে স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে তখন সচেতন জনগণ ফুঁসে উঠে। এই জনগণের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। আমাদের জনগণ সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এ অঞ্চলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসকদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। তখন যুদ্ধ পরিচালিত হয় বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানী’র নেতৃত্বে এগারোটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারদের সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত রণকৌশলে। চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে সাহসী সেনা অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) এর কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। যুদ্ধে জড়ায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাহসী তরুণ-তরুণী। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয় পাকিস্তানি মিলিটারি ও পূর্ব পাকিস্তানে গড়ে উঠা রাজাকার, আলবদর ও আল-শামস বাহিনীর হাতে। ওই ৯ মাসের যুদ্ধে প্রায় দুই লক্ষ বাঙালি তরুণী ও মহিলা পাকিস্তানি মিলিটারি ও তাদের সহচর বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়-ধর্ষিতা হয়। এদিকে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের নেশায় মরণপণ করে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এরপর ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এই হচ্ছে সংক্ষিপ্ত আকারে সত্য ইতিহাস। গল্প বানানো যায়, ইতিহাস বানানো যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গবেষকদের দ্বারা লেখা হয়ে গেছে, ক্যামেরায় স্থিরচিত্র এবং ভিডিও চলচ্চিত্র সবই সংরক্ষিত আছে ইউরোপ আমেরিকা ভারতসহ পৃথিবীর সত্যানুসন্ধানী লাইব্রেরি ও জাদুঘরে। কিন্তু, এতো সহজে আসেনি বাংলাদেশের বিজয়। শুধু যুদ্ধ করলেই বিজয় আসে না, বরং; একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্যে প্রয়োজন হয় আরও আন্তর্জাতিক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমর্থন বা স্বীকৃতি। একটি নেতৃত্ব কাঠামোও প্রয়োজন হয়। তখন যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান করে, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত মুজিব নগর সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্যে বিভিন্ন দেশে চিঠি লিখে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়েছে। তখন সিলেটের কীর্তিমান সন্তান এমএজি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি করা হয়। এ বিষয়ে আমাদেরকে সচেতনভাবে জেনে রাখা জরুরি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা সময় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভূখ- বৃটিশ উপনিবেশ বা কলোনি ছিলো, অর্থাৎ এ অঞ্চল বৃটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুটি পৃথক রাষ্ট্রের সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা প্রথম স্বাধীন হয়েছিলাম ব্রিটিশ - ভারতের বৃটিশ শাসনের দাসত্ব থেকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রায় দুই শত বছরের বৃটিশ শাসনের পর আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হতে থাকি। এখানে আমাদেরকে প্রথমেই মাতৃভাষায় পড়া লেখা ও কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্যে আন্দোলন করতে হয় ১৯৪৮ সাল থেকেই। এরপর অনেক প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে সালাম বরকত রফিক জব্বারের আত্মত্যাগের শেষে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা ও মিলিটারিদের প্রাধান্য ছিলো বেশি এবং পূর্ব পাকিস্তানের বিশেষ করে বাঙালিদের অংশগ্রহণ খুবই কম ছিলো। তাই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক শ্রেণির ষড়যন্ত্র চলতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের প্রতি। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান দুই অংশ নিয়ে এক পাকিস্তান হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী রাষ্ট্রের সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা উন্নয়ন, নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের দিকেই অধিক মনোযোগ দিতে থাকেন এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে, নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করে সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে, শিল্প কারখানা ইত্যাদি গড়ে তোলতে, এমনকি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাঙালিদেরকে পিছিয়ে রাখা হতো সচেতনভাবে। এরই প্রেক্ষিতে বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পরে ধারাবাহিক ভাবে ১৯৬৬, ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ শেষে এ অঞ্চলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে বাংলার জনগণ স্বাধীন বাংলাদেশ ভূখ-ের জন্যে পাকিস্তানি মিলিটারি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে। প্রায় এককোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় পেয়েছিল। ভারতের সরকার আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়েছে। যুদ্ধ চলছে সারা বাংলাদেশের সর্বত্র। তারপরও ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত আমরা বহির্বিশ্ব থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাইনি। অবশেষে আসে সেই শুভ সময়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সকালে ভূটান থেকে পাই প্রথম স্বীকৃতি। তৎকালীন ভূটানের রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক বার্তা পাঠিয়ে বলেন, বিদেশি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের জন্যে বাংলাদেশের জনগণের মহান এবং বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম অদূর ভবিষ্যতে সাফল্য লাভ করবে। ভুটানের জনগণ ও তার প্রত্যাশা, সৃষ্টিকর্তা বর্তমান বিপদ থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করবেন, যাতে তিনি দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের মহান কর্তব্যে দেশ ও দেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিতে পারেন। আমাদের জন্যে আরও আনন্দ সংবাদ আসে, ওইদিনই সকাল ১১টার দিকে ভারতের অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে ভারত সরকারের পক্ষে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা দেয়া হয়। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারতের পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন আহবান করে বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষের ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহ এবং সেই সংগ্রামের সাফল্য এটা ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট করে তুলেছে যে তথাকথিত মাতৃরাষ্ট্র পাকিস্তান বাংলাদেশের মানুষকে স্বীয় নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে স¤পূর্ণ অসমর্থ। ইন্দিরা গান্ধী আরো বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বিশাল বাধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ইতিহাস এটাই - ভারতের পার্লামেন্টে সেদিন ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বক্তব্য শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভারতের সংসদ সদস্যরা আনন্দের আওয়াজ তোলেন এবং ‘জয় বাংলাদেশ’ ধ্বনি দিয়ে তাদের পার্লামেন্ট মুখরিত করে তোলেন। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার পরে প্রকৃত অর্থে বহির্বিশ্বের নজর কাড়ে নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ। প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার গুরুত্বের কথা এই নিবন্ধের সূচনায় উল্লেখ করেছি। জেনে রাখতে হবে, একটি দেশের জনগণের যৌক্তিক স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় জরুরি হয়ে উঠে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথমে ভূটান ও পরে ভারতের স্বীকৃতি পাওয়ার পরে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রাম নতুন মাত্রা লাভ করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী দ্বারা একে একে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রু মুক্ত হতে থাকে। ওইদিনই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং যশোরেই যুদ্ধ বিজয়ী বাংলাদেশের রক্ত-রাঙা সূর্য আঁকা সবুজ পতাকা প্রথমে উড়েছিলো। ওই ৬ ডিসেম্বরে তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মুক্ত হয় ও বিভিন্ন এলাকা বিজয়ের ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্লজ্জভাবে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু ওই বছর আর কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের পরে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব জার্মান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। একই বছর ১২ জানুয়ারি পোল্যন্ড ও বুলগেরিয়া, ১৩ জানুয়ারি মিয়ানমার, ১৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। বৃহৎ দেশ রাশিয়া সহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ২৪ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে। স্বাধীন বাংলাদেশকে গ্রেট বৃটেন স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে প্রথমে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ওই বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরের ৪ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট থেকে স্বীকৃতি মিলে। প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আসতে থাকে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মোট ১৮ টি দেশ। যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই পাকিস্তান ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। আজকে চীন ও সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের যে নানান উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকা-ের সম্পর্ক, সেই চীন ও সৌদি আরব ১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু কূটনৈতিক যোগাযোগ চলে এবং সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের দিন অর্থাৎ ১৬ আগস্ট। বৃহৎ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট। এভাবেই আমরা সকল দেশ থেকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাই। এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনায় থাকে, যে ভারত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজয়ের পথে সহায়তা করেছে, তারা কি আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে চায়? এক্ষেত্রে এটাই পরীক্ষিত সত্য বাংলাদেশ সবসময় সচেতন। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে আমাদের স্বাধীনতার গৌরবকে ঊর্ধ্বে রেখে তাদের সাথে এবং পৃথিবীর সকল দেশের সাথে সুস¤পর্ক গড়ে তোলায় সচেষ্ট সবসময়। ২০২৪ সালের গণআন্দোলন পরবর্তী ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন শেষে দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার। একটি নতুন স্বাধীন দেশের অবকাঠামো ও শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প কারখানার ইত্যাদি উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন দেশের সাথে বহুমুখী সম্পর্কে জড়াতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে যেনো পরদেশের কূটনৈতিক চালে আমাদের কেবলই ক্ষতি না-হয়। এখন আমাদের কেবলই এগিয়ে যাওয়ার পালা। আমাদের খাদ্য শিক্ষা চিকিৎসা নিরাপত্তা ইত্যাদির নিশ্চয়তার পাশাপাশি সরকারের ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতায় আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আত্মমর্যাদা নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে রাজনীতি করে বিজয় আনবো। [মোহাম্মদ আব্দুল হক : লেখক, কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স